Date: May 15, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / আলু-পেঁয়াজ রপ্তানিতে বড় পরিবর্তন, নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলো শুভেন্দু সরকার! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

আলু-পেঁয়াজ রপ্তানিতে বড় পরিবর্তন, নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলো শুভেন্দু সরকার!

May 15, 2026 02:52:37 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আলু-পেঁয়াজ রপ্তানিতে বড় পরিবর্তন, নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলো শুভেন্দু সরকার!

পশ্চিমবঙ্গে আলু ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর এখন থেকে রাজ্যের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কোনো বাধা ছাড়াই দেশের যেকোনো প্রান্তে কৃষিপণ্য ও পশুপণ্য পাঠাতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে কৃষি খাতের জন্য বড় স্বস্তি এবং রাজ্যের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে আলুচাষি, ব্যবসায়ী ও কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা আন্তঃরাজ্য রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই দাবির বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে আগের সরকারের জারি করা কঠোর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাতিল হলো।

নতুন নীতিমালার আওতায় এখন শুধু আলুই নয়, পেঁয়াজ, খাদ্যশস্য, তেলবীজ, ফলমূল, সবজি এবং বিভিন্ন পশুপণ্যও দেশের যেকোনো রাজ্যে সহজে পরিবহন করা যাবে। রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কৃষিপণ্য পরিবহনে আর কোনো প্রশাসনিক বাধা থাকবে না।

রাজ্য সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকারের নীতির কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রপ্তানি বন্ধ থাকায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং বাজার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত বা চেকপোস্টে কৃষিপণ্য বহনকারী গাড়িকে হয়রানি করা যাবে না এবং পণ্য পরিবহনে কেউ বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলু রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমবঙ্গের কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলেছিল। বিশেষ করে হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে কৃষকদের অসন্তোষ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখে। চাষিরা অভিযোগ করেছিলেন, উৎপাদিত আলু বিক্রি করতে না পেরে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই ফসল মাঠেই নষ্ট হয়েছে।

ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শুভজিৎ সাহা জানিয়েছেন, আগের নীতির কারণে কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অনেক ব্যবসায়ী আলু মজুত করতে ভয় পাচ্ছিলেন, ফলে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হয়ে যায়। তার দাবি, আর্থিক সংকটে পড়ে অনেক কৃষক চরম হতাশার শিকার হয়েছেন।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দ্রুত এসব আলু দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং রাজ্যের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আবারও সচল হয়ে উঠবে।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার কলকাতার খাদ্য ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।