


মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে প্রাথমিক ধারণা প্রকাশ করেছেন দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো ওমানেও চাঁদ দেখার প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তাই শাওয়াল মাসের চাঁদ সরাসরি দেখা যাওয়ার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওমানের ওমান স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি জানিয়েছে, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ ১৯ মার্চ ভোরে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই দিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স ও আকাশে অবস্থান এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা চাঁদ দেখার জন্য অনুকূল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণে ওই দিন সূর্যাস্তের পর আরব উপদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব থাকলেও ওমান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিই অনুসরণ করে থাকে। সে অনুযায়ী দেশটির ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় রমজানের ২৯তম দিন অর্থাৎ ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় প্রধান চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আহ্বান করেছে। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া চাঁদ দেখার তথ্য ও প্রতিবেদন যাচাই করা হবে। যদি সেদিন সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে পরদিন ২০ মার্চ শুক্রবারই ওমানে ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে এবং ঈদ একদিন পরে উদযাপিত হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ওমানে দীর্ঘ ছুটির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর ধারণা, সরকার ঈদ উপলক্ষে টানা প্রায় পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করতে পারে। এতে দেশটির নাগরিকরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং ভ্রমণসহ ঈদের নানা আয়োজন করার জন্য বাড়তি সময় পাবেন।
উল্লেখ্য, ওমানসহ বিশ্বের প্রায় ২৭টি দেশ ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজানের চাঁদ দেখতে না পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এর ফলে দেশটিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাঁদ দেখা যাওয়ায় সেখানে রমজান শুরু হয়েছিল একদিন আগে।
সূত্র: মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজ