


মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমতে শুরু করেছে তেলের দাম। আগের দফায় বাড়ার পর এবার বাজারে দেখা যাচ্ছে স্বস্তির প্রবণতা।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই সময় তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে আবারও দাম কমতে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তার দাবি, দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি বাজারে স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ বিশ্বের মোট তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়, যা এ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।