Date: May 06, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / ডিএমকের হাত ছেড়ে বিজয়ের পাশে কংগ্রেস, তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পালাবদল - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ডিএমকের হাত ছেড়ে বিজয়ের পাশে কংগ্রেস, তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পালাবদল

May 06, 2026 09:35:35 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডিএমকের হাত ছেড়ে বিজয়ের পাশে কংগ্রেস, তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পালাবদল

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়-দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে কংগ্রেস এখন অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপাতি -এর পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ একেবারে বদলে গেছে। ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাজহাগাম’ (টিভিকে)-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বিজয় শিবির, আর তাতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে টিভিকে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও কংগ্রেসের সমর্থন পরিস্থিতি পুরো পাল্টে দেয়। কংগ্রেস তাদের পাঁচটি আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়কে সমর্থন জানালে তাঁর শিবিরের মোট আসন দাঁড়ায় ১১২-তে, যা সরকার গঠনের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে)। বহুদিনের রাজনৈতিক মিত্র কংগ্রেসের এমন অবস্থান পরিবর্তনকে দলটি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ডিএমকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কংগ্রেস সামান্য ক্ষমতার লোভে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে ফেলছে এবং রাজ্যের জনগণের আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করছে।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী -র সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতেই এই ‘কৌশলগত’ সমর্থন দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়। কংগ্রেস আরও জানিয়েছে, এই জোট শুধু সরকার গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভবিষ্যতের লোকসভা ও স্থানীয় নির্বাচনেও তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন বিজয়। রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন, ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ে আরও তৎপরতা শুরু করেছে টিভিকে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, বিরোধী অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (এআইএডিএমকে)-এর একাংশের বিধায়কও বিজয়ের পক্ষে যেতে পারেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ‘হর্স ট্রেডিং’ বা বিধায়ক কেনাবেচার আশঙ্কায়। এ কারণে নিজের দলের বিধায়কদের নিরাপদ রাখতে একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়। একই সঙ্গে বামপন্থী দল ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এই রাজনৈতিক পালাবদলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভাঙনের ইঙ্গিত এবং কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতার প্রমাণ।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে এম কে স্ট্যালিন -এর নেতৃত্বাধীন ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দ্বিমুখী আধিপত্য ছিল। তবে বিজয়ের এই উত্থান সেই পুরনো সমীকরণ ভেঙে নতুন যুগের সূচনা করছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্ট্যালিন, যা পরিবর্তনের গতি আরও ত্বরান্বিত করেছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই শপথ নিতে পারেন বিজয়। রূপালি পর্দার জনপ্রিয় নায়ক থেকে বাস্তবের ক্ষমতার কেন্দ্রে তাঁর এই যাত্রা এখন সারা ভারতের নজর কাড়ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস