Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / টিকটকার স্ত্রীই খুনের মূলহোতা! জিহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আঁখি - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

টিকটকার স্ত্রীই খুনের মূলহোতা! জিহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আঁখি

March 17, 2026 04:12:04 PM   অনলাইন ডেস্ক
টিকটকার স্ত্রীই খুনের মূলহোতা! জিহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আঁখি

কক্সবাজারের রামুতে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর বেলাল উদ্দিন জিহাদ হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি এসেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হিসেবে নিহতের স্ত্রী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘টিকটকার’ তাহেরা বেগম আঁখি–কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৫। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়, যা মামলাটির তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোটবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আঁখিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উখিয়ার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দরিয়ার দিঘি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টিকটকার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডটি প্রথম সামনে আসে গত ৪ মার্চ, যখন রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় বেলাল উদ্দিন জিহাদ–এর গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ। নিহত জিহাদ ছিলেন রাজারকুল ইউনিয়নের হাজীপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় টমটম চালক। তার মৃত্যুর ধরন এবং মরদেহের অবস্থা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পরপরই আঁখি আত্মগোপনে চলে যান, যা তাকে সন্দেহের কেন্দ্রে নিয়ে আসে। পরে নিহতের পরিবার রামু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১৫। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়, যার ফলেই শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

র‍্যাব-১৫–এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ ম ফারুক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে আঁখিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে আঁখির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় দেওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা ধীরে ধীরে মারাত্মক রূপ নেয়।

র‍্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আঁখিকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছিল। অবশেষে তাকে আটক করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব কীভাবে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিতে পারে—এই ঘটনাটি তারই একটি নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যহীনতাও এখানে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।