Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / তীব্র খরার পর বন্যার তাণ্ডব, আফগানিস্তানে নিহত ১৭ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

তীব্র খরার পর বন্যার তাণ্ডব, আফগানিস্তানে নিহত ১৭

January 02, 2026 10:15:50 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তীব্র খরার পর বন্যার তাণ্ডব, আফগানিস্তানে নিহত ১৭

তীব্র খরার পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। হঠাৎ করে পরিস্থিতির এমন অবনতি দেশজুড়ে আতঙ্ক ও মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সেখানে একটি বসতবাড়ির ছাদ ধসে পড়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুইজন শিশু ছিল। হেরাত গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী জানান, ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের কারণে বাড়ির কাঁচা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আফগানিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই বন্যা দেশের মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বন্যায় সড়ক, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বহু গবাদিপশু মারা গেছে এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই দুর্যোগ শহর ও গ্রামীণ এলাকার আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা মানুষের দুরবস্থাকে আরও প্রকট করেছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরিপ দল পাঠানো হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজন চিহ্নিত করে সহায়তা পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেরাত–কান্দাহার মহাসড়কের দাশত-ই বাকওয়া এলাকায় আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে একটি ট্রাক উল্টে যাচ্ছে। আরেকটি ভিডিওতে একটি যাত্রীবাহী বাস বন্যার পানিতে উল্টে যাওয়ার পর যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতির বিপজ্জনক মাত্রা তুলে ধরে।

প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ভারতের মতো আফগানিস্তানও বর্তমানে চরম আবহাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমি বৃষ্টির পর দেশটিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বরাবরই বেশি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও মারাত্মক করে তুলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাঁচা মাটির ঘর বেশি থাকায় সেগুলো বৃষ্টি ও বন্যায় সহজেই ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

এর আগেও আফগানিস্তান একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। গত আগস্টে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। সে সময় নাঙ্গারহার প্রদেশে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

এদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে থাকা দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে। দেশটির প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে জাতিসংঘ ও তার অংশীদার সংস্থাগুলো ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল আহ্বান করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা