


বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, অপরিশোধিত তেলের দাম ১৪০ ডলারে তুলতে চায় তেহরান। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নীতিকে ব্যর্থ দাবি করে কটাক্ষও করেছেন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি ও বৈশ্বিক তেলবাজার—দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের তেল খাতের ওপর মার্কিন চাপ কার্যকর হয়নি। বরং ওয়াশিংটনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, অবরোধের প্রভাবকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট-কে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গ করে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল পরামর্শের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করছে। তিনি দাবি করেন, তিন দিনেও কোনো তেলকূপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি—যা নিয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল। এমনকি চাইলে তারা এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই আরও উৎপাদন বাড়াতে পারতেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এরপরই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৪০ ডলারে উন্নীত করা। গালিবাফের মতে, সমস্যা তত্ত্বে নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গিতে—যা যুক্তরাষ্ট্র এখনো পরিবর্তন করতে পারেনি।
এর আগে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অবরোধের কারণে ইরানে অতিরিক্ত তেল জমে গিয়ে জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে তেলকূপে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এটি ঘটলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে, যা সহজে পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
তবে ইরান এসব দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবে এমন কোনো সংকট তৈরি হয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নীতি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বৈশ্বিক তেলবাজারে প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশলও হতে পারে। তেলের দাম ১৪০ ডলারে পৌঁছালে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।
তেলকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে—যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।