


দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ে প্রবেশ করে জয় বাংলা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এর প্রতিবাদে জুলাই যোদ্ধা কয়েকজন কার্যালয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টিস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী প্রবেশ করেন। সেখানে সমবেত হয়ে তারা জয় বাংলা শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই, সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা নিজেদের মোবাইল ফোনে সেলফি তোলেন এবং কার্যালয়ে প্রবেশ ও স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ খালেদ হাবিব সুমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রহমতুল্লাহ রহমত, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাহ উদ্দিন দিলীপ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রুহানা নিশাত বিথী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম, বীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান, পাল্টাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর থেকে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। প্রায় দেড় বছর পর কার্যালয়ে প্রবেশ করে স্লোগান দেওয়া এবং তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৫টার দিকে জুলাই যোদ্ধা কয়েকজন ব্যক্তি জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে প্রবেশ করে খড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিকেলে বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়েও প্রবেশ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান বিপ্লব, উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোনায়েম মিয়া, ৩ নম্বর শতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ৪ নম্বর পাল্টাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।