


বরিশাল সরকারি বিএম কলেজে মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের দুই সদস্যকে মারধর ও পরবর্তীতে মিথ্যা গুজব, অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা চালিয়ে সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩:০০ ঘটিকায় বরিশাল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বিএম কলেজে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চলমান মিথ্যাচার, উস্কানি, বেআইনী হুমকি ও মব সৃষ্টির অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ৪ দফা দাবি উত্থাপন করাহয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তানভির হাসান রিয়াদ বলেন, ‘অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ বিগত ৩০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের সামনে তুলে ধরে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে একটি আইনভঙ্গের রেকর্ড নেই।’
ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে তানভির হাসান রিয়াদ বলেন, নববর্ষের উৎসবকে সামনে রেখে অন্যান্য সংগঠনের মতো পহেলা বৈশাখের দিন হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম বিএম কলেজ শাখার আহ্বায়ক নাদিম মুন্না কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে ছাত্র, শিক্ষক ও এলাকার জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ব্যানার উত্তোলন করেন। ব্যানারটি উত্তোলনের কয়েক ঘণ্টা পরেই ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কে বা কারা নাদিমকে গালাগালি করে ব্যানার নামিয়ে ফেলতে বলে এবং বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হুমকিদাতারা ছাত্রদলের কেউ নয়, তারা অধিকাংশই চরমোনাই পীরের অনুসারী অর্থাৎ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর সদস্য।
নাদিম মুন্না ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ায় তিনি ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হাসান রিয়াদ এবং হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম বরিশাল বিভাগের সভাপতি মা’জ বিন জসীমকে ব্যানারটি নামিয়ে আনার অনুরোধ করেন। প্রথমে রিয়াদ সেখানে পৌঁছুলে তার পরিচয় পেয়ে উপস্থিত ১২-১৫ জন তার উপর চড়াও হয় এবং মারধর করতে থাকে। ধস্তাধস্তি চলাকালে মা’জ বিন জসিম সেখানে উপস্থিত হয়ে রিয়াদকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তার উপরও তারা হামলে পড়ে। এমতাবস্থায় তারা দু’জন আত্মরক্ষার স্বার্থে যতদূর সম্ভব মোকাবেলা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে এবং ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারি বিএম কলেজে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়, যা এখনো চলছে। হামলাকারীরা সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালায় যে, “হেযবুত তওহীদের বহিরাগত ‘সন্ত্রাসী’রা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।” দ্বিতীয়ত, এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে হেযবুত তওহীদের এমাম সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও ডাহা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে তারা সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালায়। এছাড়াও উগ্র সন্ত্রাসীরা নাদিম মুন্নাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিতে থাকে। পরবর্তীতে তারা হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের ছবি সম্বলিত ব্যাটারটি মাটিতে ফেলে পদদলিত করে এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। সর্বশেষ গত শুক্রবার তারা কলেজ গেটে বিক্ষোভ মিছিলের নামে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচার, উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং বেআইনী স্লোগান দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ৪ দফা দাবি উত্থাপন করে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরাম।
দাবিগুলো হচ্ছে-
১. এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. বিএম কলেজসহ সর্বত্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় উপযুক্ত পরিবেশ এবং জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উগ্রবাদী আচরণ, উস্কানিমূলক বক্তব্য, অপরের অধিকার হরণের চেষ্টা ও মব-সংস্কৃতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
সববেশে তিনি প্রকৃত সত্য ঘটনা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং উগ্রবাদীদের সহিংসতার অপচেষ্টা রোধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।