


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। এ সিদ্ধান্তের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তাসনিম জারা।
ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা বলেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যথাযথভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং শনিবার ছিল তার মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন। তবে যাচাই শেষে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন বলেও জানান এবং বলেন, আপিলের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছেন তিনি।
মনোনয়ন বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাসনিম জারা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মোট ভোটারের এক শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তার চেয়েও বেশি স্বাক্ষর তিনি জমা দিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন যাচাইয়ের জন্য ১০ জন সমর্থকের তথ্য পরীক্ষা করে, যার মধ্যে দু’জনের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। তবে এই দু’জনই নিজেরা বিশ্বাস করতেন যে তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। তাদের একজন জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী নিজেকে ঢাকা-৯-এর ভোটার হিসেবে জানতেন। অন্যজন খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করেন, যা ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১—এই দুই আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি নিজেকে ঢাকা-৯-এর ভোটার ভেবেই স্বাক্ষর করেছিলেন। এই দুই ব্যতিক্রম ছাড়া বাকি সব তথ্য সঠিক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার রাজনীতির যে সংগ্রামে তিনি নেমেছেন, সেই লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি তার অবস্থান তুলে ধরবেন।
উল্লেখ্য, তাসনিম জারা এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
পেশাগত জীবনে তাসনিম জারা একজন চিকিৎসক। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত। ৩১ বছর বয়সী এই প্রার্থী হলফনামায় তার আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে চাকরি থেকে বছরে তার আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে দেশে বছরে তার আয় ২৬৪ টাকা এবং দেশের বাইরে একই খাত থেকে তার আয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারার অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৬ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ২ হাজার ২৭০ পাউন্ড বৈদেশিক মুদ্রা (মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১০ হাজার ১৯০ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু।
সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তাসনিম জারা তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা। একই রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা এবং পরিশোধিত আয়কর ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।
ব্যক্তিগত জীবনে তাসনিম জারা একজন চিকিৎসক হলেও তার স্বামী পেশায় উদ্যোক্তা ও গবেষক। তার জন্ম ১৯৯৪ সালের ৭ অক্টোবর। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। তার মায়ের নাম আমেনা আক্তার দেওয়ান এবং বাবার নাম ফখরুল হাসান। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।