


নিউইয়র্কের রাজনীতিতে জোহরান মামদানির উত্থান এখন সবার আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এই সাফল্যের পেছনে আছেন এক নীরব শক্তি—তার স্ত্রী রামা দুয়াজি। আলোচনার বাইরে থাকলেও মামদানির পুরো প্রচারণা জুড়ে তার অবদান গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ।
রামা দুয়াজি মূলত প্রচারণার কৌশল, ভিজ্যুয়াল ডিজাইন এবং বার্তা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন। শহরের মানুষের কাছে মামদানির প্রচারণার ভিজ্যুয়াল পরিচয় ও ডিজিটাল বার্তা সহজভাবে পৌঁছে দিতে তার ভূমিকা ছিল মুখ্য। প্রচারণার স্বেচ্ছাসেবকরা তাই তাকে স্নেহভরে ডাকেন “নীরব স্থপতি” নামে।
তবে তিনি কখনোই আলোচনায় আসতে চাননি। মঞ্চে ওঠেন না, সাক্ষাৎকার দেন না, এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও প্রায় অনুপস্থিত। তার বিশ্বাস—রাজনীতি হওয়া উচিত চিন্তা ও কাজের মাধ্যমে, ব্যক্তিত্বের প্রচারে নয়। শুধুমাত্র প্রচারণার নকশা নয়, নীতিগত বার্তা তৈরিতেও তার পরামর্শ জোহরান মামদানির রাজনীতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে হাউজিং ও কমিউনিটি বিষয়ক ইস্যুতে মামদানির বক্তব্যে রামার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির ছাপ স্পষ্ট।
সিরিয়ায় জন্ম নেওয়া রামা দুয়াজি শৈশবে কিছুটা সময় কাটিয়েছেন দুবাইয়ে, পরে স্থায়ীভাবে চলে আসেন নিউইয়র্কে। তিনি কমিউনিকেশন ডিজাইন ও ইলাস্ট্রেশনে শিক্ষিত এবং একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী ও সিরামিক নির্মাতা। তার শিল্পকর্ম প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে। নিউইয়র্ক ও লন্ডনে তার সিরামিক প্রদর্শনীও প্রশংসিত হয়েছে।
২০২১ সালে ডেটিং অ্যাপ হিঞ্জে রামা ও জোহরানের পরিচয় হয়, আর ২০২৫ সালের শুরুতে তারা নিউইয়র্কে এক সাদামাটা অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও, জোহরান মামদানির রাজনৈতিক যাত্রায় রামা দুয়াজির নান্দনিকতা, চিন্তা ও মূল্যবোধ আজ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে—যেন এক নীরব, তবু অমূল্য প্রভাব।