


ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে আকস্মিক পরিবর্তন ঘটেছে। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে হঠাৎ বরখাস্ত করা হয়েছে—যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে ‘অবসর’ বলা হচ্ছে। এ ঘটনায় ওয়াশিংটনের সামরিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দুই কর্মকর্তা। তাদের মতে, পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেনাপ্রধানকে সরানো হলো, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জ ‘অবিলম্বে অবসরে যাচ্ছেন’। এক বিবৃতিতে তার দীর্ঘ সামরিক জীবনের প্রশংসা করে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, দেশের জন্য তার কয়েক দশকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তার অবসর জীবনের জন্য শুভকামনাও জানানো হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জেনারেল জর্জের মেয়াদ এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি ছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই তার এই বিদায় অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পরিবর্তন সাধারণত বড় কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
জেনারেল র্যান্ডি জর্জের এই হঠাৎ বিদায় শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।