


ভারতের কানপুর-এ সিনেমা দেখতে গিয়ে এক তরুণী শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা পরে অভিযুক্ত যুবককে বাইরে ধরে গণপিটুনি দেয়। ঘটনাটি নতুন করে জনসমাগমস্থলে নারী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। সিনেমা চলাকালীন হলের অন্ধকারে তার পাশের আসনে বসা এক যুবক আচমকা অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তরুণী সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
দর্শকরা দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন। এতে হলের ভেতরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পরে সিনেমা শেষ হলে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে বের হওয়ার সময় তরুণীর বাবা অভিযুক্ত যুবককে দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তাকে মারধর শুরু করেন।
এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিবারের অন্য সদস্য ও কয়েকজন পথচারীও এতে যুক্ত হন। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অভিযুক্ত যুবক গণপিটুনির শিকার হন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
স্থানীয় থানার এক কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নারী নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না এবং এ ধরনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও জনসমাগমপূর্ণ স্থান, বিশেষ করে সিনেমা হলের মতো বিনোদনকেন্দ্রে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও সচেতনতার অভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় মহলে।