Date: May 15, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আইন আদালত / সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়, ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে বিজয় - দৈনিক দেশেরপত্র - মানব...

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়, ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে বিজয়

May 15, 2026 10:34:57 AM   অনলাইন ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়, ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে বিজয়

দেশের আইনজীবী অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল)। সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টিতেই তারা জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত সবুজ প্যানেল পেয়েছে একটি মাত্র সদস্য পদ।

এই নির্বাচনের ফলাফলকে আইনজীবী মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থিত প্যানেল বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ভোট গণনা শেষে স্পষ্ট হয় নীল প্যানেলের একচেটিয়া আধিপত্য।

নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত পদ সভাপতি হিসেবে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তিনি পান ২ হাজার ৯৮৪ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেন পান ৭৭৮ ভোট। বিশাল এই ভোট ব্যবধান নির্বাচনকে একতরফা চিত্রে পরিণত করে।

অন্যদিকে সম্পাদক পদেও নীল প্যানেল বড় জয় পায়। মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পান ৭৮৬ ভোট। ফলে সভাপতি-সম্পাদকসহ নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদেই নীল প্যানেলের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত হয়।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টিতেই নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, যা তাদের সাংগঠনিক প্রভাব ও আইনজীবী অঙ্গনে সমর্থনের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।

এই নির্বাচনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সমিতির ইতিহাসে এবার প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কোনো প্যানেল অংশ নিতে পারেনি। গত ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা (ইজিএম)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাইরে থাকেন।

ফলে এবারের নির্বাচন মূলত নীল, সবুজ এবং সীমিত আকারে অন্যান্য প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাব এই আইনজীবী নির্বাচনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়, যা ভবিষ্যতে বার অ্যাসোসিয়েশনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।