Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / অর্থনীতি / ১১ মাসে ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশগমন সম্পন্ন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

১১ মাসে ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশগমন সম্পন্ন

December 09, 2025 10:04:36 PM   অনলাইন ডেস্ক
১১ মাসে ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশগমন সম্পন্ন

চলতি বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশ থেকে মোট ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৮২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন বলে জানিয়েছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। আগের বছর ২০২৪ সালে একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৫৬ জন এবং ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৪৬ জন বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। প্রবাসীরা ২০২৩ সালে ২১ হাজার ৯৪২.৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৪ সালে ২৬ হাজার ৮৯০.০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং চলতি অর্থবছরের (জুলাই–নভেম্বর ২০২৫) মধ্যে ১৩.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মতো কিছু ঐতিহ্যবাহী বাজারে কর্মসংস্থান কিছুটা ব্যাহত হলেও নতুন কর্মগন্তব্য চিহ্নিত হওয়া এবং কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা বাড়ায় মোট জনশক্তি রপ্তানি ভালো অবস্থানে রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ও অনানুষ্ঠানিক বিনিময় হারের ব্যবধান কমে আসা এবং অর্থপাচার রোধে কঠোর তদারকি বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে নভেম্বর মাসে এক মাসেই ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৩ জন কর্মী বিদেশে যাওয়ায় রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১.১৩ বিলিয়ন ডলার। কর্মসংস্থানের দেশভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে সৌদি আরবে গেছেন ৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৯ জন বাংলাদেশি এবং কাতারে গেছেন ১ লাখ ৪৩৯ জন। সিঙ্গাপুরেও কাজের সুযোগ পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৩২৬ জন।

সরকার জানিয়েছে, বৈদেশিক অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন কর্মবাজার হিসেবে রাশিয়া, ব্রুনাই, পূর্ব ইউরোপসহ একাধিক দেশে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী নার্স, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা আরও বাড়বে— তাই বাংলাদেশকে প্রয়োজনভিত্তিক দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন জেলায় বহু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল ডিপ্লোমা, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার-কন্ডিশনিং, সাধারণ মেকানিক্স, বৈদ্যুতিক যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, অটো ক্যাড ২ডি-৩ডি, ৬জি ওয়েল্ডিং, ক্যাটারিং, রাজমিস্ত্রি প্রশিক্ষণ এবং কোরিয়ান, আরবি, জাপানি ভাষা শিক্ষা।

এর আগে সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষণা করে, যাতে বিদেশি চাকরির বাজার আরও সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।