Date: April 27, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / খুলনা / উলশী খাল পুনঃখননে উৎসবের আমেজ, স্মৃতিতে ১৯৭৬-এর ঐতিহাসিক মুহূর্ত - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

উলশী খাল পুনঃখননে উৎসবের আমেজ, স্মৃতিতে ১৯৭৬-এর ঐতিহাসিক মুহূর্ত

April 27, 2026 06:18:16 PM   অনলাইন ডেস্ক
উলশী খাল পুনঃখননে উৎসবের আমেজ, স্মৃতিতে ১৯৭৬-এর ঐতিহাসিক মুহূর্ত

যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম ঘিরে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। খালের দুইপাড় ভোর থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। নবীন-প্রবীণ সব বয়সী মানুষই উপস্থিত হন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। কেউ হাতে কোদাল, কেউ মাথায় টোকা (মাথাল), আবার কেউ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন সড়কের দুই পাশে। পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে পৌঁছেই দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি উলশী ইউনিয়নের বেতনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত, যা একসময় এলাকার পানি নিষ্কাশন ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘদিন পর খালটিকে আবার প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।

এই খালটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক এক স্মৃতি। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে আজও উপস্থিত ছিলেন ৯০ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে সেই দিনের স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে এসে স্কুল মাঠে নামেন এবং নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে রাখেন। পরে সেই ঝুড়ি তার মাথায় তুলে দেন। এমনকি তার মাথার টোকাও রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নিয়েছিলেন—এমন স্মৃতি আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে।

তিনি আরও জানান, সেদিন খাল খনন কার্যক্রমে হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নিয়েছিল। কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই মানুষ শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খেয়ে কাজ করেছিল, রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেম থেকেই তারা এই কাজে যুক্ত হয়েছিল।

দীর্ঘ ৫০ বছর পর একই স্থানে আবারও খাল পুনঃখননের উদ্বোধনকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগ ও স্মৃতির মিশেল দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শত শত মানুষ সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল হাতে তারা স্বাগত জানান তাকে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৬ সালের সেই স্মৃতিবিজড়িত ব্যক্তিত্ব শাহাদাত হোসেনকে কাছে ডেকে নেন। দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথোপকথন হয়। শাহাদাত হোসেন তাকে জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে সম্বোধন করলে প্রধানমন্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং কিছু সময় কথা বলে দোয়া চান।

উলশী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই মুহূর্তকে বিশেষভাবে স্মরণীয় হিসেবে দেখছেন। গৃহবধূ চাঁদনী খাতুন বলেন, এত বড় একজন নেতাকে আমাদের এলাকায় দেখতে পাওয়া সত্যিই গর্বের। আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। একইভাবে ৭৯ বছর বয়সী গোলাম হোসেন জানান, পঞ্চাশ বছর আগে যে খাল কাটা শুরু হয়েছিল, আজ তা আবার নতুনভাবে প্রাণ পাচ্ছে-এটা এলাকার মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

স্কুলছাত্রী সুমি আক্তার জানান, তিনি গদখালির ফুল বাগান থেকে রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে। দূর থেকেই তিনি সেই ফুল দেখিয়ে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন।

উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে স্থানীয়রা শুধু একটি উন্নয়ন উদ্যোগ নয়, বরং ইতিহাসের পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন। একদিকে অতীতের স্মৃতি, অন্যদিকে ভবিষ্যতের আশা—সব মিলিয়ে উলশী গ্রাম পরিণত হয় এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর স্থানে।