


ঢাকাই সিনেমার গণমানুষের নায়ক মান্না এবং তামিল চলচ্চিত্রের বর্তমান মহাতারকা বিজয় থালাপতিকে একই ফ্রেমে দেখা গেছে একটি ভাইরাল ছবিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবিকে ঘিরে এখন ভক্তদের মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা, আবেগ ও নানা জল্পনা-কল্পনা।
প্রায় দুই দশক আগের বলে দাবি করা ছবিটিতে দেখা যায়, মান্নার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন বর্তমান দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয়। ছবিটি প্রকাশের পর থেকেই দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নস্টালজিয়া, বিস্ময় ও কৌতূহল।
তবে ভাইরাল হওয়ার পরপরই ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের ধারণা, এটি বাস্তব কোনো আলোকচিত্র নয়; বরং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা একটি কল্পিত ছবি।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, ছবিটিকে পুরোপুরি ভুয়া বলেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের দিকে মান্নার বেশ কয়েকটি আলোচিত সিনেমার পরবর্তী কাজ ভারতের চেন্নাইয়ের বিভিন্ন স্টুডিওতে সম্পন্ন হতো। বিশেষ করে প্রসাদ ল্যাব ও এভিএম স্টুডিওতে ‘বাস্তব’, ‘মিনিস্টার’ ও ‘বীর সৈনিক’ সিনেমার কাজ চলাকালে বিজয়ের সিনেমার কাজও একই সময়ে সেখানে চলছিল বলে জানা যায়। সেই সূত্রে দুই তারকার সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনাও নাকচ করছেন না অনেকে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “অনেক আগের ঘটনা, ঠিক মনে নেই। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সিনেমার কাজের জন্য তিনি প্রায়ই ভারতে যেতেন। বিজয়ের সঙ্গে দেখা হতেও পারে, তবে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”
অন্যদিকে মান্নার ছেলে সিয়াম মান্না দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ছবিটি ঘিরে ভক্তদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়াও নজর কেড়েছে। একজন লিখেছেন, “নায়ক মান্না ছিলেন সাধারণ মানুষের নায়ক। তার সিনেমায় সবসময় বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত।” আরেকজনের মন্তব্য, “মান্না রাজনীতিতে না যাওয়ায় মানুষের হৃদয়ে তার সম্মান অটুট রয়েছে।”
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এত বছর পরও মান্নাকে ঘিরে মানুষের এই আবেগ প্রমাণ করে তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, ছিলেন সময়ের কণ্ঠস্বর। নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকাই সিনেমা নানা সংকটে দিশেহারা, তখন সামাজিক বাস্তবতা ও প্রতিবাদের গল্প দিয়ে নিজস্ব ধারা তৈরি করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে বিজয়ও দীর্ঘদিন ধরে তামিল সিনেমায় নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তুলে ধরেছেন। সিনেমার পর্দার বাইরে রাজনীতিতেও তার জনপ্রিয়তা এখন ব্যাপক আলোচিত।
দুই ভিন্ন দেশের, দুই ভিন্ন চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই দুই তারকার ক্যারিয়ারে আশ্চর্য মিল খুঁজে পাচ্ছেন ভক্তরা। একজন ছিলেন ঢালিউডের জনতার নায়ক, অন্যজন দক্ষিণী সিনেমার মানুষের তারকা। তাই ভাইরাল হওয়া এই ছবিটি বাস্তব হোক বা কৃত্রিমভাবে তৈরি— অনেকের কাছেই এটি দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তিকে এক ফ্রেমে দেখার এক আবেগঘন মুহূর্ত।