


কুমিল্লা-৪ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ আবারও জটিল আকার ধারণ করছে। দেবিদ্বার-কেন্দ্রিক এই আসনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ দলীয় মনোনয়ন নেওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি।
দুই দিন আগে কাকতালীয়ভাবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও মনোনয়ন না পাওয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বহুদিনের গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব ভুলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তারা একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সমন্বয় সফল হলে বিএনপি আবারও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে, যা হাসনাত আব্দুল্লাহর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দেবিদ্বার বিএনপিতে ত্রিমুখী কোন্দল দীর্ঘদিনের—মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, এএফএম তারেক মুন্সী ও ছাত্রদল নেতা আব্দুল আউয়াল—এই তিনজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলটিকে দুর্বল করে রেখেছিল। যদিও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মঞ্জু মুন্সী, তবে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহবিবাদ নিরসনে মাঠে নেমেছেন। তারেক মুন্সীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠককে অনেকে বিএনপির রাজনীতিতে ‘শীতল হাওয়া’ হিসেবে দেখছেন।
এর আগে ধারণা ছিল, বিএনপির বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ সংকটকে কাজে লাগাতে পারবেন এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে হাসনাত দেবিদ্বারে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। উন্নয়ন ভাবনা, ঘন জনসম্পৃক্ততা এবং নতুন ধরনের রাজনৈতিক আচরণ—সব মিলিয়ে তিনি স্থানীয়দের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
তবে স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, বিএনপি পূর্ণ ঐক্য ফিরে পেলে সেটি হাসনাতের জন্য শক্ত প্রতিপক্ষ তৈরি করবে। কিন্তু বাস্তবে কি বিএনপির পুরোনো দ্বন্দ্ব কাটবে? নাকি সাময়িক সমন্বয়ের আড়ালে রয়ে যাবে আগের মতোই গৃহবিবাদ? বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে।
দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, ধানের শীষ যিনি চূড়ান্তভাবে পাবেন, সংগঠন সেই নেতার পক্ষে সর্বোচ্চভাবে কাজ করবে। তার ভাষায়, মঞ্জু মুন্সী ও তারেক মুন্সীর বৈঠক ইতিবাচক পদক্ষেপ। গৃহবিবাদ মিটলে ধানের শীষের জয় রুখে দেওয়া কঠিন হবে।
অন্যদিকে এনসিপির স্থানীয় সমন্বয়কারী জামাল মোহাম্মদ কবির বলছেন, হাসনাতকে ঘিরে দেবিদ্বারের মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখছে। তার ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা মানুষকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। জনগণের আস্থাতেই হাসনাত আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পথে এগোবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর হাসনাত আব্দুল্লাহও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, দেবিদ্বারের বাতাস, পানি, মাটি তাঁকে হৃদয়ের টানে ডাকে। এখানকার মানুষই তার আপনজন, আর সব বাধা পেরিয়ে তিনি দেবিদ্বারের উন্নয়নেই কাজ করতে চান।
সামগ্রিকভাবে কুমিল্লা-৪ আসনে এখন একদিকে উত্থানশীল হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্যদিকে দ্বন্দ্ব ভুলে এগোতে চাওয়া বিএনপি—এই দুই শক্তির লড়াই ঘিরেই আগামী নির্বাচনের প্রধান উত্তাপ তৈরি হচ্ছে।