


নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ায় ‘তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় হেযবুত তওহীদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বর্তমান অস্থিরতা, রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের বিপরীতে একটি স্থায়ী ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি তার দীর্ঘ বক্তব্যে বর্তমান বিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বলেন, “ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মানবসৃষ্ট কোনো তন্ত্র-মন্ত্র বা মতবাদ কোনো কালে মানুষকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারেনি। বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় একথা আরও সত্য। ৫৪ বছরে এই গণতন্ত্র তথা ভোটের রাজনীতি মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি বরং এটি একটি ব্যর্থ ব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “প্রতিনিয়ত খুন, ধর্ষণ, মব সন্ত্রাস ও বিচারহীনতা গোটা জাতিকে গিলে খেতে বসেছে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা তথাকথিত সংস্কারের কথা বলছেন, কিন্তু ব্রিটিশ আমলের এই ঘুণে ধরা ব্যবস্থা সংস্কার করে কোনো সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। একে সমূলে উৎপাটন করে আল্লাহর দেওয়া ন্যায়বিচারভিত্তিক জীবনব্যবস্থা বা ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে হবে।”
হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, “তওহীদ কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়, এটি হলো আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য কারো বিধান না মানার দৃঢ় অঙ্গীকার। রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে মদিনাকেন্দ্রিক একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, হেযবুত তওহীদ সেই প্রস্তাবই দিচ্ছে। এটি কোনো মধ্যযুগীয় বা পশ্চাৎপদ ধারণা নয়; এটি একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল ব্যবস্থা যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। বর্তমানে ধর্মের নামে যে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা চলছে, তা ইসলামের শিক্ষা নয় বরং ধর্মব্যবসায়ীদের অপব্যাখ্যা।”
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বর্তমান সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থা দেশপ্রেমহীন সমাজ তৈরি করছে, আর মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ব্রিটিশরা এমনভাবে সংকুচিত করেছে যে তা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমাদের এমন শিক্ষা ব্যবস্থা দরকার যেখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয় থাকবে।” এসময় শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে হেযবুত তওহীদের এই বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন সংগঠনের এই শীর্ষ নেতা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। তিনি তার বক্তব্যে সাংবাদিকতার সংকট ও জাতীয় অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “গণমাধ্যমে আমার ১০ বছরের পথচলায় দেখেছি, সবাই সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। গণমাধ্যম আজ কর্পোরেট বাণিজ্যের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”
দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২১ লক্ষ কোটি টাকা। রাজনৈতিক হানাহানি ও অনিয়মের কারণে জাতি আজ এক ভয়াবহ অগ্নিপরীক্ষার দিকে যাচ্ছে। মানুষ আজ ভীতসন্ত্রস্ত। গত কয়েকদিনের ঘটনায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। অনেক যোগ্য মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার। আমরা যদি নিজেদের মুসলমান দাবি করি, তবে আমাদের আল্লাহর দেওয়া ব্যবস্থার দিকে ফিরে আসতেই হবে। হেযবুত তওহীদ সেই পূর্ণাঙ্গ রূপরেখাই দিচ্ছে। আমরা উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সোচ্চার। শিক্ষিত সমাজ ও সাংবাদিকদের এখন সত্যের পক্ষে কলম ধরতে হবে।”
সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি মো. তানভীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া আঞ্চলিক আমির মো. জসেব উদ্দিন, বিভাগীয় গণমাধ্যম সম্পাদক জাহিদ মাহমুদ, কুষ্টিয়া জেলা আমির মো. আক্কাস আলী, ভেড়ামারা থানা সভাপতি মিজানুর রহমান মজনু। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে হেযবুত তওহীদের আদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক জনমতের সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার এম লিটন উজ জামান, এটিএন বাংলার শামিম হাসান খান, এখন টিভির মো. মাসুদ ও মেজবাহ উদ্দিন পলাশ, যমুনা টিভির রুহুল আমিন বাবু, সময় টিভির মো. বাবলু ও সবুজ মোল্লা, দীপ্ত টিভির দেবেশ চন্দ্র সরকার, বিজয় টিভির রিয়াজুল ইসলাম সেতু, বাংলা টিভির মো. সুমন, এশিয়ান টিভির হারুন অর রশিদ, মাই টিভির মো. আরিফুজ্জামান ও মাহবুবুর রহমান, জি টিভির শরিফুল ইসলাম, গ্লোবাল টিভির মামুন, মোহনা টিভির হুজ্জাতুল্লাহ হীরা, আর টিভির বায়াজিদ বোস্তামী এবং দৈনিক স্বর্ণযুগের সম্পাদক রিপন খন্দকারসহ কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকগণ।