


কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীতে গভীর রাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ১৩ জন আহত হন। অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতাকেই প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার ব্যাপারীরহাট এলাকার বাঁশেরতল নামক স্থানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কুড়িগ্রাম থেকে ভূরুঙ্গামারীগামী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে মাইক্রোবাসটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন। নিহতরা হলেন—ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের উত্তর তিলাই গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে সাদিয়া (৮), একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে নুরন্নবী (২৮), এবং শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাইফুর রহমানের ছেলে ও মাইক্রোবাস চালক লিমন মিয়া (২৮)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ১৩ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নাগেশ্বরী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এ নিয়ে যায়। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ স্থানান্তর করা হয়।
জানা গেছে, দুর্ঘটনায় কবলিত মাইক্রোবাসটির যাত্রীরা রংপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে এমন দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লা হিল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতাকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে দ্রুতগতির যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।