


গাইবান্ধা সদর উপজেলায় গরুর লাম্পি স্কিন রোগ এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতনতার অভাব আর সঠিক চিকিৎসার অভাবে এই রোগটি গত কয়েক দিনে বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
লাম্পি স্কিন মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি প্রথম আফ্রিকায় দেখা দিলেও পরে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মশা, মাছি ও আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এটি এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়ায়। সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন অনেক গরুর শরীরে গুটি ওঠা, তীব্র জ্বর ও খাবারে অনীহার মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এতে গরুর দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে গরু অসুস্থ হলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে গ্রাম্য কবিরাজ বা হাতুড়ে ডাক্তার দেখান। এতে সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় রোগটি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুণ কুমার এই বিষয়ে বলেন, রোগটি আগে থেকেই দেশে ছিল, তবে এখন এর সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমানে তাদের কাছে এই রোগের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই। সরবরাহে ঘাটতি থাকায় তারা খামারিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, খামার পরিষ্কার রাখা এবং আক্রান্ত পশুকে মশারি দিয়ে আলাদা করে রাখলে এই রোগ ছড়ানো বন্ধ করা সম্ভব। গরু অসুস্থ হলে দেরি না করে সরকারি পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য তারা খামারিদের অনুরোধ করেছেন। সঠিক যত্ন আর সচেতনতাই এখন এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রধান উপায়।