


আজিমুল হক
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সহিত মিশ্রিত করো না, এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না (সুরা বাকারা:৪২)। নিশ্চয়ই তিনি যে সব স্পষ্ট নিদর্শন ও পথনির্দেশ অবতীর্ণ করেছেন মানুষের জন্য, যারা তা গোপন করে আল্লাহ তাদেরকে লানত দেন এবং অভিশাপ্তকারীরাও তাদের অভিশাপ দেন (সুরা বাকারা: ১৫৯)। এ আয়াত দুটি মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয়, অনুকরণীয়। এজন্য যে, কে সত্য ধারণকারী আর কে সত্য গোপনকারী তা চেনা মো’মেন মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য।
কোন পথে চললে মানুষ সুখ শান্তি লাভ করবে আর কোন পথে চললে মানুষ অন্যায় অশান্তির মধ্যে নিমজ্জিত হবে সেটা আল্লাহ অপেক্ষা কেউ ভালো জানার কথা নয়। কারণ যিনি সৃষ্টি করেন, তিনিই তার সৃষ্ট বস্তু সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। সেই জানার দায়বদ্ধতা থেকে তিনি মানুষের জন্য অবতীর্ণ করেছেন কোর’আন, যার মধ্যে তিনি বর্ণনা করেছেন জীবন পরিচালনার বিধি-বিধান। মানুষ যখন আল্লাহর প্রেরিত কোর’আনের দিক-নির্দেশনা অনুসরণ করবে তখন সে বিপথগামী হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সে সচেতনতা ও সতর্কতার সাথে পথ চলতে পারবে। এজন্য তিনি বারবার বলেছেন, তিনি যা অবতীর্ণ করেছেন তা স্পষ্ট করে পৌঁছে দাও মানুষের কাছে, যেন মানুষ সতর্ক হতে পারে।
অথচ আজকে সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, যারা সেই কোর’আনের জ্ঞান হাসিল করে আলেম, মুফতি, মুফাসসির দাবি করেন, তারা সাধারণ মানুষকে আল্লাহর নাজিলকৃত দীনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত বিষয়ের মাসলা-মাসায়েল শিক্ষা দিচ্ছেন।’ অপ্রয়োজনীয় বলার কারণ হলো সে সম্পর্কে আল্লাহর কোনো বক্তব্য নেই। পক্ষান্তরে যে সব বিষয় আল্লাহ গুরুত্বারোপ করেছেন, অনুসরণ করতে বলেছেন এবং অনুসরণ না করলে কঠিন শাস্তি অবধারিত করেছেন তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
এখন ধর্মপ্রাণ মানুষের উচিত হবে কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে তাদের সুরত লেবাস দেখে অন্ধবিশ্বাস না করা। বরং তাদের কোনো কথায় বিশ্বাস স্থাপনের পূর্বে তা যাচাই করা যে সে সম্পর্কে আদৌ আল্লাহর কোনো বক্তব্য আছে কিনা, রসুলাল্লাহর সমগ্র জীবনের যে উদ্দেশ্য ও সংগ্রাম তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা।