Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / বাংলাদেশ / জারি হলো গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫—কী আছে এতে? - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

জারি হলো গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫—কী আছে এতে?

November 26, 2025 01:41:42 PM   অনলাইন ডেস্ক
জারি হলো গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫—কী আছে এতে?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বহুল আলোচিত গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে অধ্যাদেশটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। অধ্যাদেশটির নম্বর ৬৭।

অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো—জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫–এ উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাই করা। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সার্বভৌম জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ গণভোট আয়োজনের বিধান করা হয়েছে। সংসদ ভেঙে থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির কাছে ‘অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি’ সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা জারির পরই কার্যকর হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়, গণভোটে ভোটাররা একটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন—
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবসমূহের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?” (হ্যাঁ/না)

সংবিধান সংস্কারের মূল প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে—
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী গঠিত হবে। আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট, যেখানে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও এই উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকবে।

জুলাই জাতীয় সনদের তফসিলে উল্লিখিত ৩০টি বিষয়ে—যেমন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, মৌলিক অধিকার, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইত্যাদিতে—যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো সেগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। এছাড়া অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুসারে সম্পন্ন হবে।

গণভোটের যাবতীয় প্রশাসনিক কাঠামো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থাপনাকে অনুসরণ করবে। যে ভোটকেন্দ্রগুলো জাতীয় নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত হবে, সেখানেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররাই গণভোট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজন হলে অসুস্থতা বা অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের বিকল্প ব্যবস্থাও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবেন। ভোটগ্রহণে অনিয়ম বা বাধা সৃষ্টি হলে তিনি ভোট বন্ধ ঘোষণা করতে পারবেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।

গণভোটের জন্য জাতীয় নির্বাচনে প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকাই ব্যবহৃত হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সময়সূচিই গণভোটেও কার্যকর থাকবে। কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল হলে কমিশনের নির্দেশে পুনরায় ভোটের আয়োজন করা হবে।

ভোট হবে গোপন ব্যালটে, এবং গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে পৃথক ও ভিন্ন রঙের হবে। নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে; প্রয়োজনে জাতীয় নির্বাচনের জন্য সরবরাহকৃত ব্যালট বাক্সই গণভোটেও ব্যবহার করা যাবে।

অধ্যাদেশটি মূলত জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবসমূহ জনগণের কাছে সরাসরি যাচাইয়ের একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে—যেখানে ভোটাররা হ্যাঁ বা না দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো ও সংবিধান সংস্কারের দিক নির্ধারণ করবেন।