Date: May 04, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / ঝুঁকির মাঝেই জমজমাট দুধের বাজার! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ঝুঁকির মাঝেই জমজমাট দুধের বাজার!

May 04, 2026 12:00:51 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
ঝুঁকির মাঝেই জমজমাট দুধের বাজার!

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের লক্ষ্মীর মোড়—একটি ব্যস্ত সড়কের পাশে গড়ে ওঠা ব্যতিক্রমধর্মী দুধের হাট। নেই কোনো স্থায়ী অবকাঠামো, নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা; তবুও প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে জমজমাট এই বেচাকেনা। অবাক করার বিষয়, মাত্র ২০-৩০ মিনিটেই এখানে হাতবদল হয় লাখ টাকার দুধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই সড়কের দুই পাশে ভিড় জমাতে শুরু করেন খামারিরা। কেউ সাইকেলে, কেউ ভ্যানে, আবার কেউ হাতে করে জেরিক্যান, বালতি ও বোতলে দুধ নিয়ে হাজির হন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইকাররা এসে দরদাম শুরু করেন। আর ঠিক দুপুর ২টার মধ্যেই পুরো এলাকা ফাঁকা—শেষ হয়ে যায় দিনের সব লেনদেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এখানে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মণ দুধ আসে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে লিটারপ্রতি দুধের দাম প্রায় ৪০ টাকার মতো স্থিতিশীল রয়েছে।

জোতবাজার থেকে আসা বিক্রেতা আব্দুল মান্নান বলেন, “এই হাটটা খুব ব্যস্ত রাস্তার পাশে বসে। সারাদিনই ভারী যানবাহন চলাচল করে। দুধ নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে সবসময় ঝুঁকি থাকে। গত বছর আমার বাবা মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হওয়ার পর আর আসেন না।”

আরেক বিক্রেতা মোজাম্মেল হক জানান, “প্রতিদিন নির্দিষ্ট এই অল্প সময়েই ভালো বেচাকেনা হয়। ৩০ মিনিটেই প্রায় দেড় লাখ টাকার দুধ বিক্রি হয়ে যায়।”

পাইকারি ক্রেতা পরিতোষ কুমার বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে নিয়মিত এখান থেকে দুধ কিনছেন। “গড়ে ৭-৮ মণ দুধ কিনি। পরে এগুলো দিয়ে ছানা তৈরি করি। কিন্তু রাস্তার পাশে বাজার বসায় সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।”

বাজারের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই বাজারটির কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। ব্যস্ত সড়কের দুই পাশে বসায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, অতীতে প্রাণহানির ঘটনাও রয়েছে। তিনি বলেন, “হাটের পাশে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। সেটি উদ্ধার করে বাজারের জন্য বরাদ্দ দিলে সবাই নিরাপদে ব্যবসা করতে পারবে।”

এ বিষয়ে ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন জানান, প্রতিদিন এখানে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার দুধ কেনাবেচা হয়। ইতোমধ্যে বাজারটি নিরাপদ স্থানে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমি বরাদ্দের আবেদন করা হবে।