Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি, চমক ছড়াল দাম - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত...

টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি, চমক ছড়াল দাম

April 19, 2026 07:39:10 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি, চমক ছড়াল দাম

টাইটানিক জাহাজডুবির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিরল স্মারক আবারও আলোচনায় এসেছে। ডুবে যাওয়া সেই ঐতিহাসিক জাহাজ থেকে বেঁচে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিপুল দামে বিক্রি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যেখানে টাইটানিকের স্মৃতিচিহ্নগুলো আজও সংগ্রাহক ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে অনুষ্ঠিত একটি নিলামে টাইটানিকের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলির ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেটটি বিক্রি হয় ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ ডলারের সমান। নিলামটি আয়োজন করে ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

লাইফ জ্যাকেটটি শুধু ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণই নয়, এটি বিশেষভাবে মূল্যবান কারণ এতে লরা ফ্রাঙ্কাতেলি এবং একই লাইফবোটে বেঁচে যাওয়া অন্য যাত্রীদের স্বাক্ষর রয়েছে। নিলাম শুরুর আগে এর দাম অনুমান করা হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ডের মধ্যে, তবে শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ক্রেতা ফোনের মাধ্যমে অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।

একই নিলামে টাইটানিকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ছিল লাইফবোটের একটি সিট কুশন, যা ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। এটি কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, এসব উচ্চমূল্যের বিক্রি প্রমাণ করে টাইটানিকের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনও কমেনি। নিলাম কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, এই স্মারকগুলো শুধু ইতিহাস নয়, বরং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ও বেঁচে ফেরা মানুষের জীবনের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কগামী টাইটানিক জাহাজটি আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বিশাল বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাহাজটি সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যায়। প্রায় ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন প্রাণ হারান।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ইতিহাসে এক গভীর দাগ কেটে যায়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ একসঙ্গে যাত্রা করেছিলেন। ধনী, প্রভাবশালী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী—সবাই ছিলেন এই জাহাজে।

লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই যাত্রীদের একজন ছিলেন, যিনি তার নিয়োগকর্তা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং তার স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের একটি লাইফবোটে উঠে প্রাণে বেঁচে যান। তবে সেই লাইফবোটে পর্যাপ্ত আসন খালি থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১২ জনকে নিয়ে সেটি পানিতে নামানো হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

টাইটানিকের স্মারক নিলামে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড এখনও ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড, যা ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি বিক্রির মাধ্যমে স্থাপিত হয়। এই কার্পেথিয়া জাহাজই টাইটানিক দুর্ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করেছিল।

টাইটানিকের এই স্মৃতিচিহ্নগুলো আজও বিশ্বজুড়ে মানুষের কৌতূহল ও আবেগকে জাগিয়ে রাখছে, যা ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়কে বারবার নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।