


পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় গভীর রাতে ডাকাতির সময় বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ও তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে হানা দেয়। ঘরে প্রবেশ করেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং গৃহকর্তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে।
হঠাৎ আক্রমণে গৃহকর্তা উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১) ও তাঁর ছেলে মিশকাফ বাহাদুর (১৯) গুরুতর আহত হন। তবে একপর্যায়ে বাড়ির অন্য সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ডাকাত দলের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ সময় বাড়ির লোকজনের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে পালানোর সময় তাদের একজন গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকে।
পরে স্থানীয়রা আহত গৃহকর্তা, তাঁর ছেলে এবং ওই ডাকাতকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ডাকাতের পরিচয় দুলাল হিসেবে জানা গেছে। তার বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলার একতাবাজার এলাকায়। এদিকে গৃহকর্তা ও তাঁর ছেলের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পরই ওই ডাকাত মারা যান। অন্যদিকে আহত দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।