


ভারতের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যেন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, রাজনীতি আর বিনোদনের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক ‘স্টার-স্টাডেড’ ভোটযুদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু—বিভিন্ন রাজ্যে জনপ্রিয় তারকারা সরাসরি ভোটের মাঠে নেমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। বড় রাজনৈতিক দলগুলোও পরিচিত মুখদের প্রার্থী করে ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে এবার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি তারকা প্রার্থীদের উপস্থিতি নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি—উভয় শিবিরেই রয়েছে অভিনেতা, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ। দুই দফা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন সবার দৃষ্টি ফলাফলের দিকে।
এবারের নির্বাচনে ঘাটাল আসন থেকে আবারও লড়ছেন টলিউড সুপারস্টার দেব। চৌরঙ্গি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন অরুন্ধতী লাভলী মৈত্র।
অন্যদিকে বিজেপির হয়ে সোনারপুর দক্ষিণে লড়ছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শ্যামপুর আসনে প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়। মানিকতলায় তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শ্রেয়া পাণ্ডে।
বরানগর আসনে তৃণমূলের প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিবপুরে বিজেপির হয়ে লড়ছেন রুদ্রনীল ঘোষ। টালিগঞ্জে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন পাপিয়া দে অধিকারী।
সংগীত অঙ্গন থেকেও রয়েছে অংশগ্রহণ। গোপালপুর-রাজারহাট আসনে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সী এবং চন্দননগরে প্রার্থী হয়েছেন সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।
এদিকে তামিলনাড়ুতেও তারকাদের উপস্থিতি কম নয়। জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয় নিজের দল তামিলাগা ভেত্রি কাড়ঘম গঠন করে প্রথমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ডিএমকে নেতা ও বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিন তরুণ ভোটারদের সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি পরিচালক-অভিনেতা সীমান নিজ দল এনটিকে’র হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন শুধুই রাজনৈতিক লড়াই নয়—তারকাদের উপস্থিতিতে এটি হয়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতা, যেখানে গ্ল্যামার আর গণতন্ত্র পাশাপাশি পথ চলেছে।