


নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, নীতি বাস্তবায়ন এবং মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রোববার (৩ মে) সকালে সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তিনি। নতুন সরকারের অধীনে এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে বিবেচিত হচ্ছে।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এতে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকরা অংশ নিয়েছেন। কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, জনসেবার মান উন্নয়ন এবং সরকারি নীতির বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনের আগে শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি জানান, এবারের সম্মেলনকে ঘিরে মাঠ প্রশাসন থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাত সম্পর্কিত প্রস্তাবই সর্বাধিক, যার সংখ্যা ৪৪টি। তিনি আরও জানান, সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসব সাক্ষাতে তারা মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন।
এছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে পৃথক কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব অধিবেশনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই ডিসি সম্মেলন মাঠ প্রশাসনে গতি সঞ্চার করবে এবং জনসেবামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে কার্যকর দিকনির্দেশনা দেবে।