


পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, এসব সমীক্ষা অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং বাস্তব ফলাফল এর সঙ্গে মিলবে না। তার মতে, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২২৬টির বেশি আসন পাবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে, তা বিজেপির প্রভাবিত ও অর্থায়িত। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বিভিন্ন মাধ্যমকে টাকা দিয়ে এই ফলাফল প্রচার করিয়েছে যাতে জনমত প্রভাবিত করা যায়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই একাধিক সংবাদমাধ্যমে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ হতে থাকে। অধিকাংশ সমীক্ষায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে মমতা এসব ফলাফলকে “চক্রান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাস্তবে জনগণ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তিনি ভোটার ও দলীয় কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতি, তীব্র রোদ ও বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদেরও তিনি ধন্যবাদ জানান, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাঠে থেকে কাজ করেছেন।
মমতার অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের একাংশ তৃণমূল কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি দাবি করেন, অনেক জায়গায় তাদের মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গ্রেফতার ও ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি কয়েকটি এলাকা যেমন ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল এবং ভবানীপুরের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে তৃণমূল কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি কিছু সহিংস ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন এবং নিহত এক ভোটারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করে মমতা বলেন, এসব ফলাফল শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়েছে। তার দাবি, সত্যিকারের ফলাফল প্রকাশ পেলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
তিনি ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, আগেও বুথফেরত সমীক্ষা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এবারও তা হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের গণনাকেন্দ্রে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, গণনার সময় কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মমতা আরও বলেন, গণনার দিন দলীয় প্রার্থীদের উপস্থিত থাকতে হবে এবং ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান, যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা উত্তেজনা না ছড়ায়।
সবশেষে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করেনি। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও তিনি নিজের বিজয়ের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, জনগণ তৃণমূলের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার