Date: May 01, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের র‍্যালি ও সমাবেশ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের র‍্যালি ও সমাবেশ

May 01, 2026 03:03:55 PM   অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের র‍্যালি ও সমাবেশ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় গঠিত সংগঠন বাংলাদেশ সাংবাদিক জোট (বাসাজ) এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।  শুক্রবার (১ মে ২০২৬) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন আধূনিক-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. হাসিনা বানু, বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের সভাপতি রুফায়দাহ পন্নী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা এবং সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের সভাপতি রুফায়দাহ পন্নী তার বক্তব্যে শ্রমিকের অধিকারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সংগ্রাম এবং অধিকারের লড়াই নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে শ্রমিকরা নির্যাতিত হয়েছেন এবং তাদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সমাজের অভিজাত ও সুবিধাবাদী শ্রেণি শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামের ওপর নিজেদের বিলাসিতার প্রাসাদ নির্মাণ করেছে। তারা কখনোই চাইবে না যে এই সাধারণ মানুষগুলো তাদের অধিকার ফিরে পাক।

রুফায়দাহ পন্নী আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি পেতে হলে সবার আগে তাদের নিজেদের অবস্থান বুঝতে হবে। আমাদের ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এই নির্যাতিত মানুষ ও শ্রমিকদের অধিকারের জন্য দাসপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং তা বিলুপ্ত করেছেন। পবিত্র কোরআনেও স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করার। এটি মূলত স্রষ্টা প্রদত্ত একটি নির্দেশ। এই লড়াইয়ে সফল হতে হলে সঠিক নেতৃত্ব এবং একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তিতে কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কবি নজরুলও শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামের ঋণ শোধ করার শুভ দিন আসার কথা বলে গেছেন। আজকের এই র‍্যালি সেই বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামেরই অংশ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা সাংবাদিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা যারা সংবাদকর্মী, তারাও মূলত এক ধরণের শ্রমিক। আমরা কলম শ্রমিক। অথচ আমাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই, নেই কোনো পেনশনের ব্যবস্থা। যখন তখন সাংবাদিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। ইনক্রিমেন্ট নেই বললেই চলে। বছরের পর বছর ধরে নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে কিছু ঘোষণা এলেও তার সুবিধা পায় মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন। এই বৈষম্য ও অবিচারের অবসান হওয়া প্রয়োজন।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা আধুনিক শোষণ ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, অতীতের দাসদের শিকলে বেঁধে চাবুক মারা হতো, কিন্তু এখনকার ডিজিটাল দাসত্ব আরও সুসংগঠিত। পুঁজিবাদী অর্থনীতি মানুষকে একটি উৎপাদন যন্ত্রে পরিণত করেছে। এখানে শ্রমিকরা কেবল একেকটি সংখ্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। দাসত্বের নাম ও রূপ বদলেছে কিন্তু শোষণ কমেনি।

বক্তারা বলেন, যতদিন এই কাঠামোগত অন্যায় টিকে থাকবে, ততদিন শ্রমিক মুক্তি কেবল দিবসের স্লোগান হিসেবেই থেকে যাবে। শ্রমিকদের প্রকৃত মুক্তি কেবল আইন দিয়ে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি নতুন ও মানবিক জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠা করা। সেই নতুন জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠার জন্য আরেকটি সংগ্রামের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক এবং সুধীজনেরা অংশগ্রহণ করেন। তারা সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।