Date: April 25, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / অর্থনীতি / বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ, কমছে আমদানির চাপ - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ, কমছে আমদানির চাপ

April 25, 2026 01:38:40 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ, কমছে আমদানির চাপ

দেশে এবার পেঁয়াজ উৎপাদনে এসেছে বড় ধরনের সাফল্য। বাম্পার ফলনের কারণে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বাজারে দামও স্থিতিশীল থাকায় ভোক্তারা স্বস্তিতে আছেন এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্য বলছে, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের উন্নত চাষাবাদের ফলে এবার পেঁয়াজ উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন। কৃষক ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এবার সেই লক্ষ্য অর্জন হবে এবং দেশ পেঁয়াজে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা জানান, দেশে এবার পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দামও স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য সরকারের দুটি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রায় ৯০০টি আধুনিক সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘরের মাধ্যমে কৃষকরা দীর্ঘ সময় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারছেন এবং গ্রাম পর্যায়েও আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে আমদানি ছিল প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, সেখানে চলতি বছরে আমদানি অনেক হ্রাস পেয়েছে। দেশে বার্ষিক চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন হওয়ায় এই উৎপাদন বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক পার্থ কুমার মণ্ডল জানান, এবার পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপের চেয়েও ভালো হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করায় ক্ষতির ঝুঁকিও কমেছে। একই এলাকার আরেক চাষি সাধন হীরা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি শতাংশ জমিতে উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য আশার খবর।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কমেছে, ফলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনায় রয়েছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আগের কয়েক বছরে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। তবে এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিরই প্রমাণ।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে এবার পেঁয়াজের অপচয় কমছে। নতুন এয়ার-ফ্লো পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ৮ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশকে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে নিয়ে যাবে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে আগে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হতো। তবে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।