


যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া দুই তরুণ-তরুণী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে খুব শিগগিরই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হয়নি। নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়ে তাদের জীবনের সব পরিকল্পনা থেমে গেল, রেখে গেল গভীর শোক ও রহস্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ)-এর পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন জামিল আহমেদ লিমন।
নিহত লিমনের বড় ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, লিমন ও বৃষ্টি একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। লিমনের বড় ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, দেশে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় লিমন প্রায়ই বৃষ্টির প্রশংসা করতেন। তিনি বৃষ্টিকে অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন মানুষ হিসেবে দেখতেন—যিনি গান গাওয়া থেকে শুরু করে রান্নায়ও ছিলেন দক্ষ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, লিমন ছিলেন ভদ্র, বিনয়ী ও প্রাণবন্ত স্বভাবের একজন তরুণ। গত দুই বছর ধরে দক্ষিণ ফ্লোরিডার সংকুচিত জলাভূমি নিয়ে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে গবেষণা করছিলেন তিনি। তার স্বপ্ন ছিল পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হওয়ার সুযোগ পেল না।
অন্যদিকে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি জানান, মার্কিন পুলিশ তাদের এই দুঃসংবাদ দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, একটি বাসা থেকে পাওয়া দেহাবশেষের সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ মিলেছে। তবে পুরো মরদেহ উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ এপ্রিল, যখন হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান লিমন ও বৃষ্টি। দীর্ঘ ১০ দিন কোনো খোঁজ না পাওয়ার পর গত শুক্রবার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির সন্ধানে এখনো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু ও আশপাশের পানিতে ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
একটি ভালোবাসার সম্পর্ক, ভবিষ্যতের স্বপ্ন আর জীবনের সম্ভাবনাময় দুই তরুণ-তরুণীর গল্প—সবকিছুই যেন এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে হঠাৎ থেমে গেল। এই ঘটনা শুধু দুটি পরিবার নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।