


দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, তরুণদের চিন্তা-ভাবনা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বায়োটেকনোলজি, কৃষি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বিশ্ব ডিএনএ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য তরুণদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ড. মাহদী আমিন জানান, সরকার মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীর জন্য ভ্যাকসিন উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বায়োটেকনোলজি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য কৃষিজ উৎপাদন বাড়াতে জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বর্তমান কারিকুলামে ব্যবহারিক শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করলেও বাস্তব জীবনে দক্ষতা প্রয়োগে পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির একটি বড় অংশ বিদেশে চলে যাওয়ায় দেশও তাদের সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির সরাসরি সংযোগ না থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের মেধা কাজে লাগাতে সরকারি সহায়তা বাড়ানো এবং গবেষণার জন্য পৃথক সেল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয় কর্মশালায়। একইসঙ্গে অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ করহার ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
তরুণদের নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে এই কর্মশালায়।