


কয়েক দিনের মধ্যে, ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের প্রভাবকে বিশেষভাবে তুলে ধরে এটিকে বিশ্বের প্রথম ‘জেনারেশন জেড (Gen-Z) প্রভাবিত নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ওই নির্বাচনগুলো হয় বিরোধী দলগুলোর বয়কটের কারণে, বা অংশ নেওয়া হলেও তা সীমিত মাত্রায় ছিল। টানা প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের অভ্যুত্থানের ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতিত হয়।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায়, ২০০৯ সালের পর এটিই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হিসেবে ধরা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বিএনপি জয়ী হওয়ার ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে, তবুও জামায়াত একটি শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ হিসেবে নির্বাচনে প্রতীয়মান হবে।
অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের পতনের পর উদ্ভুত তারুণ্যভিত্তিক রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (ন্যাশনাল এনসিপি পার্টি) তাদের হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনকে নির্বাচনী ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে। বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার দল নির্বাচনে জয়ী হয়ে এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার নেৃতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা উত্তরণের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন খুবই জরুরি। এছাড়া এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কও প্রভাবিত হবে।
এ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ প্রজন্মের বা জেন-জি। তাদের পছন্দ এবং সিদ্ধান্ত ভোটের ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষভাবে এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামি যেকোনো ফলাফলই ঐতিহাসিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনের মধ্যে এবারের নির্বাচনেই জামায়াত সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করবে।