Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে বড় পতন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে বড় পতন

April 17, 2026 11:04:02 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা শিগগিরই কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। ফলে কয়েক সপ্তাহের উচ্চমূল্যের ধারা ভেঙে আবারও ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে ব্রেন্ট ক্রুড।


বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে কোনো ধরনের সংঘাত তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে পড়ে। সম্প্রতি আলজাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার্স ১ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল (WTI)-এর দামও কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান কে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। তখন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় উল্লম্ফন হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়া এবং সম্ভাব্য সমাধানের আলোচনা জোরদার হওয়ায় বাজারে আস্থা ফিরে এসেছে। এর ফলেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে শুরু করেছেন এবং তেলের দামও নিম্নমুখী হয়েছে।

যদিও দাম কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, তবুও পুরো সপ্তাহজুড়ে তেলের দাম ৯০ ডলারের ঘরেই অবস্থান করছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে বাজার এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি এবং সামান্য নেতিবাচক খবর এলেই আবারও দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। যদি সংঘাত পুরোপুরি নিরসন হয়, তাহলে দাম আরও কমতে পারে। তবে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আবারও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।