


নরসিংদী প্রতিনিধি:
মায়ের পরকীয়ার কারণে আজ আমি পিতাহারা এতিম। নিহত বাবার বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এই আর্তনাদ করেছে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী শিশু সাইফ ভূঁইয়া। তার দাবি, মায়ের অনৈতিক সম্পর্কের জেরেই তার বাবা সাইফুল ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন।
সাইফ জানায়, তার জন্মের পর মা সুমাইয়া আক্তার রবিন নামের এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে করে তাকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। ২০২২ সালে রবিন নামের ওই ব্যক্তির সংসারের ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান নিয়ে সুমাইয়া আবার সাইফুলের সংসারে ফিরে আসেন। এরপর তারা সপরিবারে মাধবদীর একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। সাইফের অভিযোগ, তার মা প্রায় সময় মোবাইলে পরকীয়ায় ব্যস্ত থাকতেন। এই বিষয় নিয়ে তার বাবার সাথে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে তার বাবা সাইফুল ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সাইফ এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছে।
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ইসমাইল ভূঁইয়া মাধবদী থানায় একটি মামলা করেছেন। নিহত সাইফুল ইসলাম ইসমাইলের বড় ভাই ছিলেন। ইসমাইল জানান, সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সুমাইয়া মাধবদী পৌরসভার আলগি মনোহরপুর গ্রামে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি সুমাইয়া আক্তারকে পুলিশ ইতোমধ্যে আটক করেছে। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জুয়েল রানা জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।