


বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এ নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুরকৌশল বিভাগের বিশিষ্ট শিক্ষক অধ্যাপক ড. একরামুল হক। দীর্ঘ শিক্ষকতা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার ক্যারিয়ারকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষাঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়োগ ঘোষণা করা হয়। তিনি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বুয়েট অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ ও দক্ষ এই শিক্ষাবিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
অধ্যাপক ড. একরামুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু থেকেই ছিল অসাধারণ সাফল্যে ভরপুর। কুমিল্লার কৃতি সন্তান তিনি। ১৯৮১ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৪তম স্থান অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৮৯ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন এবং অনার্সে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।
একই বছর তিনি বুয়েটে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এরপর ধাপে ধাপে ১৯৯২ সালে সহকারী অধ্যাপক, ১৯৯৭ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৫ সালে পূর্ণ অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বুয়েটে শিক্ষকতা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ১৯৯৬ সালে তিনি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণাক্ষেত্রে তার অবদানও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে তার ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যা তাকে দেশের অন্যতম স্বীকৃত প্রকৌশল গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সড়ক ও অবকাঠামো খাতে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বুয়েটের গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানকে বুয়েটের উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার পর এবার নতুন নেতৃত্ব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অধ্যাপক ড. একরামুল হক।
দেশের শীর্ষ এই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. একরামুল হকের নিয়োগকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, তার অভিজ্ঞ নেতৃত্বে বুয়েট শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে যাবে এবং দেশের প্রকৌশল শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।