


রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই নৃশংস ঘটনাকে মানবতার জন্য লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি নিহত শিশুটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বুধবার (২০ মে) তিনি তার ফেসবুক পোস্টে রামিসাকে উদ্দেশ করে আবেগঘন ভাষায় লেখেন, প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রামিসা ছিল পরিবারের ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের এক স্বপ্ন, যা অকালেই নিভে গেছে।
পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, এই ধরনের নৃশংসতা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তিনি অপরাধীদের “হায়েনা” আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধীরাই চিরকাল ধিক্কারের পাত্র হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।
সবশেষে তিনি নিহত রামিসার আত্মার শান্তি কামনা করে লেখেন, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন এবং তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিকৃত মানসিকতার কারণে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার পর স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করা হলেও জাকির হোসেন জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, সে নারায়ণগঞ্জে একটি বিকাশের দোকানে টাকা তুলতে গেছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।