


নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক আফতেনপোস্তেন-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গচিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কার্টুনে মোদিকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে দেখানো হয় এবং একটি সাপের মতো আকৃতির জ্বালানি পাইপ হাতে ধরা অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী লেখায় তাকে “চতুর এবং কিছুটা বিরক্তিকর মানুষ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।
বুধবার প্রকাশিত ওই কার্টুন প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে অপমানজনক এবং বর্ণবাদী প্রতিচ্ছবি হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের দাবি, এটি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা মিডিয়ায় প্রচলিত সেই পুরোনো স্টেরিওটাইপকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, যেখানে ভারতকে সাপ ও সাপুড়ের দেশ হিসেবে দেখানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে প্রতীকী ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বিতর্কের পেছনে নরওয়েতে মোদির সাম্প্রতিক সরকারি সফরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা যায়। ওই সফরের সময় এক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনলাইনে আলোচনা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেয়। তবে এর কিছুদিন পরই এই কার্টুন প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং বিতর্ক আরও বাড়ে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে নরওয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান সাম্প্রতিক সূচকে ১৫৪ থেকে নেমে ১৫৭-এ এসেছে, যা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের সীমা এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার ভারসাম্য—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক।