


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মো. শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে এবং হত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া তালতলা বেড়িবাঁধ এলাকায় বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় হত্যা করে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং পায়ের রগ কেটে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের ভাই মোহাম্মদ সেলিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শামীমের প্রায় ১৫ দিন আগে এলাকার একজন ব্যক্তির সঙ্গে বিবাদ এই হত্যার মূল কারণ হতে পারে। স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের সংঘাতও ঘটনার পেছনের অন্য একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শামীম ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহেদ চৌধুরী ফারুকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। এছাড়া তিনি পৌরসভা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আলীর শ্যালক। স্থানীয়রা বলছেন, শামীম সরাসরি কোনো উচ্চপদে ছিলেন না, কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব ও এলাকায় উপস্থিতি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পক্ষ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
নিহতের হত্যার ভিডিও বা ছবি প্রকাশ হয়নি, তবে স্থানীয়রা এবং পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও শোক প্রকাশ করছেন। পুলিশ ও প্রশাসন এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে।