


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন ও আইনি জটিলতার একাধিক ধাপ অতিক্রমের পর তার প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং এরপরই গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাকে এমপি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান। এর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সরকারি চাকরি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাছাইয়ে বাতিল করা হয়। এরপর নতুন করে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুম মনোনয়নপত্র জমা দেন, যা প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নুসরাত তাবাসসুম আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে কমিশন তার মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে ২ মে তা বৈধ ঘোষণা করে।
এদিকে প্রার্থীতা ফিরে পেতে মনিরা শারমিন আদালতে রিট আবেদন করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন যাতে চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাতের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়।
তবে সোমবার (৪ মে) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ওই রিট শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে বিষয়টি অন্য বেঞ্চে স্থানান্তর করেন। কারণ, বেঞ্চের এক বিচারপতি এবং রিট আবেদনকারী একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়নি।
সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে তার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।