Date: May 03, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সাহিত্য / ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু একুশে বইমেলা, অংশ নিচ্ছেন না অনেক প্রকাশক - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

২০ ফেব্রুয়ারি শুরু একুশে বইমেলা, অংশ নিচ্ছেন না অনেক প্রকাশক

February 06, 2026 11:37:19 AM   অনলাইন ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারি শুরু একুশে বইমেলা, অংশ নিচ্ছেন না অনেক প্রকাশক

পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ও বইমেলা ২০২৬–এর সদস্যসচিব মো. সেলিম রেজা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত বইমেলা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অনিবার্য বাস্তবতার কারণে এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পরিচালনা কমিটি গঠন, একাধিক বৈঠক, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ এবং স্টল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে বলে জানানো হয়। মেলার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বক্তা ও প্রবন্ধকারদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।


বাংলা একাডেমি জানায়, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর স্টলভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যদিও মেলা আয়োজনের সার্বিক ব্যয় বেড়েছে। গত বছর অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবারও অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে ৫৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। স্থানসংকুলানের কারণে গত বছরের ৫২৭টির সঙ্গে নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া বড় আকারের স্টলের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে এবং সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানও অংশগ্রহণে আগ্রহ জানিয়েছে।


তবে বইমেলার সময়সূচি নিয়ে প্রকাশকদের একাংশের আপত্তি রয়েছে। দেশের সৃজনশীল প্রকাশকদের বড় অংশ কিছুদিন ধরে বইমেলার সময় পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাঁদের দাবি, রোজার সময় মেলা আয়োজন করলে পাঠকসমাগম কমে যাবে এবং বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) গত ২৫ জানুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার কাছে আবেদন করে ঈদের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানায়। ওই আবেদনে দেশের মূলধারার সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাসহ ২৬২ জন প্রকাশক স্বাক্ষর করেন।
অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৬ জানুয়ারি জানায়, মেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হবে। তবে প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্টলভাড়া ২৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এদিকে সাধারণ প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ১২ জন প্রকাশক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ২০ ফেব্রুয়ারির বইমেলাকে ‘ভূতুড়ে’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, রোজার দিনে মেলা শুরু হলে পাঠক ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসবেন না, ফলে বইমেলা শুধু একটি ‘নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা’তে পরিণত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, শত শত প্রকাশকের দাবি উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রকাশনা শিল্পের জন্য আত্মঘাতী, অগণতান্ত্রিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
প্রকাশকদের দাবি অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের স্বনামধন্য প্রকাশক রোজার মধ্যে মেলা না করার পক্ষে লিখিতভাবে সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি এক জুম বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রকাশকেরাও তাঁদের পূর্বের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রকাশকদের বড় একটি অংশ বাদ দিয়ে মেলা আয়োজন করা হলে সেটি ইতিহাসের অন্যতম ব্যর্থ ও কলঙ্কিত আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


এর আগে গত কয়েক মাসে বইমেলার তারিখ নিয়ে একাধিকবার ঘোষণা ও স্থগিতের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বইমেলার উদ্বোধন হবে এবং তা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।