Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / বরিশাল / আমানত ফেরত না পেয়ে গ্রাহকদের মানববন্ধন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

আমানত ফেরত না পেয়ে গ্রাহকদের মানববন্ধন

September 22, 2025 08:46:29 PM   অনলাইন ডেস্ক
আমানত ফেরত না পেয়ে গ্রাহকদের মানববন্ধন

অমানত ফেরত না পেয়ে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছেন নেছারাবাদের শ্যামলছায়া সমাজকল্যাণ সংস্থার কয়েক শতাধিক গ্রাহক। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থার পরিচালক উত্তম মিস্ত্রী ও ম্যানেজার হাসিবুল কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে মাসের পর মাস গ্রাহকদের ঘুরিয়েও আমানত ফেরত দিচ্ছেন না। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে গ্রাহকদের মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে।

জানা গেছে, গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে সংস্থার সাতটি শাখা পিরোজপুরে অভিজিৎ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন উত্তম মিস্ত্রী। এতে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা আরও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন।

রোববার বিকেলে উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাদকাঠি বাজারে ভুক্তভোগীরা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের সামনে তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভিক্ষুক ছালেহা বেগম (৬০) জানান, সংসার চালানোর ফাঁকে ফাঁকে তিনি ভিক্ষার টাকায় ৮২ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ মুনাফার আশায় টাকা জমা রাখলেও এখন তা ফেরত চাইলে সংস্থার কর্মকর্তাদের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

তার মতোই দিনমজুর খাদিজা, নাজমা ও হাজেরাসহ আরও অনেকে মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের অভিযোগ, রোঙ্গাকাঠি ব্রাঞ্চের প্রায় চার শতাধিক গ্রাহক এখনো তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাননি।

স্থানীয়রা জানান, উত্তম মিস্ত্রী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একাধিক সমিতি খুলে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে গ্রাহক আকৃষ্ট করেন। ছয় বছরে দ্বিগুণ মুনাফার প্রলোভনে পড়ে দিনমজুর, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা বিপুল অঙ্কের টাকা জমা রাখেন। কিন্তু টাকা ফেরত চাইতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কয়েক দিন আগে গ্রাহকেরা অফিসে গিয়ে টাকা চাইলে উত্তম মিস্ত্রী থানায় গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ‘অফিস লুটের’ মামলা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তম মিস্ত্রী বলেন, “আমরা মাঠে টাকা ছেড়েছি। এখন সবাই একসঙ্গে টাকা চাইছে, এভাবে দেওয়া সম্ভব নয়।”

এদিকে নেছারাবাদ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. হাসান রকি বলেন, “উত্তম মিস্ত্রী বিভিন্ন জেলা থেকে লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ২২৮ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছে। এই অর্থ দিয়ে সে ও তার আত্মীয়স্বজন বিপুল সম্পদ গড়েছে। ইতোমধ্যে আতা বহুমুখী সমবায় সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।”