


দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পে বৈষম্যের শিকার হওয়ার প্রতিবাদে এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে ঢাকায় নাগরিক সমাবেশ করেছেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে (জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে) এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার প্রায় চার শতাধিক সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শামসুল আলম, সাতক্ষীরা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাবু, বৃহত্তর খুলনা সমিতির সহ-সভাপতি শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলা সমিতি, পেশাজীবী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, "সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। অথচ গত ১৭ বছরে এখানে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি।" তারা আরও বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের একটি বড় অংশ সাতক্ষীরায় হওয়ায় প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক এ জেলায় আসেন। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির সংকট, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বেহাল দশার কারণে জেলার মানুষ যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি পর্যটকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলায় কোনো ক্রীড়া কমপ্লেক্স, রেল যোগাযোগ বা আধুনিক কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা নেই। তাই অবিলম্বে সাতক্ষীরার জন্য সুনির্দিষ্ট গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
"আর নয় বৈষম্য, ন্যায্য অধিকার চাই"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সমাবেশ থেকে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জেলার জন্য বিশেষ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, সাতক্ষীরাকে দেশের রেল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা, সুন্দরবনকে ঘিরে টেকসই ইকোটুরিজম গড়ে তোলা এবং উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ। একইসাথে ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বন্দরে রূপান্তর এবং পাটকেলঘাটাকে উপজেলায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সার্ভেয়ার ইনস্টিটিউট, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে আম, চিংড়ি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট তৈরির দাবিও জানান বক্তারা। এছাড়া, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জেলায় আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম নির্মাণেরও আহ্বান জানানো হয় সমাবেশ থেকে।