Date: April 30, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / উড়োজাহাজেই জন্ম নিল ফুটফুটে নবজাতক, জুতার ফিতায় বাঁধা হলো নাড়ি! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

উড়োজাহাজেই জন্ম নিল ফুটফুটে নবজাতক, জুতার ফিতায় বাঁধা হলো নাড়ি!

April 29, 2026 10:07:58 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উড়োজাহাজেই জন্ম নিল ফুটফুটে নবজাতক, জুতার ফিতায় বাঁধা হলো নাড়ি!

যুক্তরাষ্ট্রের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে ঘটল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। অবতরণের মাত্র আধা ঘণ্টা আগে আকাশপথে জন্ম নিল এক নবজাতক কন্যা। চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় ফ্লাইটের ভেতরেই সাধারণ জিনিস ব্যবহার করে নেওয়া হয় প্রসব ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা-যা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনাটি ঘটে বোয়িং ৭৩৭–এ, যা ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ওরেগনের পোর্টল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। ফ্লাইটটি যখন হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় আকাশে উড়ছিল, তখনই শুরু হয় এক অপ্রত্যাশিত জরুরি পরিস্থিতি।

যাত্রী ছিলেন টেনেসির বাসিন্দা অ্যাশলি ব্লেয়ার। তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন মায়ের কাছে গিয়ে সন্তান প্রসব করবেন। কিন্তু পোর্টল্যান্ডে নামার প্রায় ৩০ মিনিট আগে হঠাৎ তার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে এবং বিমানে থাকা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা জরুরি ‘অবস্টেট্রিকাল কিট’ খুঁজে না পেয়ে বিপাকে পড়েন।

এই সংকটময় মুহূর্তে মানবিকভাবে এগিয়ে আসেন দুই যাত্রী—টিনা ফ্রিটজ ও ক্যারিন পাওয়েল। তারা পেশায় প্যারামেডিক, যারা ডমিনিকান রিপাবলিক থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলেন। চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ জিনিসপত্র দিয়েই প্রসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

বিমানের ভেতরে যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়-

  • যাত্রীদের কাছ থেকে কম্বল সংগ্রহ করা হয়
  • প্রয়োজনীয় সহায়তায় ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা সাহায্য করেন
  • নবজাতকের নাভি কাটার পর তা বাঁধার জন্য ব্যবহার করা হয় একটি জুতার ফিতা

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, কোনো হাসপাতালের পরিবেশ ছাড়াই বিমানের ভেতরেই জন্ম নেয় এক সুস্থ কন্যা শিশু। তার ওজন প্রায় সাড়ে পাঁচ পাউন্ড। শিশুটির নাম রাখা হয় ব্রিয়েল রেনি ব্লেয়ার

ঘটনার পরপরই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি চিকিৎসা দল মা ও নবজাতককে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, মা ও শিশু দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছেন।

এ ঘটনায় ডেলটা এয়ারলাইনস একটি বিবৃতি দিয়ে সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তবে প্যারামেডিক টিনা ফ্রিটজ জানান, সেখানে কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না—সব কাজই করা হয়েছে উপস্থিত সাধারণ যাত্রীদের সহযোগিতায়।

তিনি আরও বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি। মনে হচ্ছে আমরা এখন চিরকালের জন্য একটি সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ।”

আকাশে জন্ম নেওয়া এই শিশুটি এখন শুধু একটি পরিবার নয়, বরং একটি পুরো বিমানের যাত্রীদের জন্যও স্মরণীয় এক মানবিক ঘটনার প্রতীক হয়ে থাকবে।