


জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার–এর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে চলছে শোক, স্মৃতিচারণ আর আবেগঘন বিদায়বার্তা। সহকর্মী শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একে একে জানাচ্ছেন তাদের ভালোবাসা ও বেদনার কথা। অনেকেই বলছেন, কারিনা ছিলেন প্রাণবন্ত, ইতিবাচক এবং সবার কাছে ভীষণ আপন একজন মানুষ।
শুক্রবার (১৬ মে) কারিনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন,
“অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে। আমার মেয়ের কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।”
দীর্ঘদিন ধরে লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা কায়সার। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার এই অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মী ও ভক্তরা।
অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লেখেন,
“তার মাঝে এক অন্যরকম আলো ছিল। কোনো ঘরে ঢুকলেই তার ইতিবাচক ও হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সবার নজর কাড়ত। শান্তিতে ঘুমাও কারিনা। এই পৃথিবী তোমার যোগ্য ছিল না।”
চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি কারিনার সঙ্গে কাটানো কিছু স্মৃতি স্মরণ করে আবেগঘন পোস্ট দেন। তিনি লেখেন,
“কারিনা আপু তুমি না আমাকে সেদিন কল দিয়ে বললে দীঘি আমি কিন্তু বিদায় ফার্স্ট ডে দেখব। তুমি না আমার সাথে ঘুরতে যেতে চাইলে। আপু প্রত্যেকটা কথা আমার কানে বাজতেছে। ভালো থাকো আপু।”
অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান কারিনার সঙ্গে মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছেন,
“কারিনা আপু মাত্র এক মাস আগে তুমি আমাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে আমার কাজের প্রশংসা করেছিলে। ভাবতেও পারিনি সেটাই আমাদের শেষ কথা হবে। তুমি সত্যিকারের একজন ভালো মানুষ ছিলে। আল্লাহ তোমাকে জান্নাত নসিব করুন।”
উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী কারিনার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে আক্ষেপের সুরে লেখেন,
“দেখা হবে অন্য ভুবনে যেখানে মানুষ কারও মরণব্যাধি নিয়ে উল্লাস করে না। রেস্ট ইন পিস কারিনা আপু।”
এদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামস আফরোজ চৌধুরী লিখেছেন,
“আমি খবরটা পেয়ে পাগলের মতো কান্না করছি। কারিনাকে আর দেখব না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ হিসেবে অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কারিনা কায়সার। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, হাসিমাখা মুখ ও ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তাই তার মৃত্যুতে শুধু পরিবারের নয়, পুরো বিনোদন অঙ্গনেই নেমে এসেছে গভীর শোক।
ভক্ত ও সহকর্মীরা এখন মহান আল্লাহর কাছে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না, এত অল্প বয়সেই এভাবে চলে গেলেন সবার প্রিয় কারিনা।