


গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে (৩৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করলেও মূল অভিযুক্তরা এখনো অধরা। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও, অস্ত্র হাতে ফুটেজে দেখা যাওয়া কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত আটটার দিকে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আসাদুজ্জামান তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা তুহিনকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে ঈদগাঁ মাঠের কাছে একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে, হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এক নারীকে মারধর করছিল বাদশা মিয়া নামের এক ব্যক্তি। এ সময় কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশার ওপর হামলা করে। সাংবাদিক তুহিন সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। হামলাকারীরা বিষয়টি টের পেয়ে তুহিনকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলে। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভিডিও মুছতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধাওয়া করে পাশের একটি দোকানে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তবে আরেকটি সূত্রমতে, এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, একই দিন একই পত্রিকার আরেক সাংবাদিককেও হেনস্তা করা হয়েছিল।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকেরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। শুক্রবার সকালে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে আসামিদের স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ার পরও তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারাটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। তারা গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। খাগড়াছড়িতেও সাংবাদিকরা এই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
নিহত সাংবাদিক তুহিনের ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার জুমার নামাজের পর চান্দনা ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গাজীপুরসহ সারা দেশের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।