


গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চককল্যাণপুর গ্রামে শরিকানা জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি ও সীমানা বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চককল্যাণপুর গ্রামের মৃত হায়াত আলীর ছেলে ছামেদ মন্ডল ও মৃত রবগুল মন্ডলের ওয়ারিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। চককল্যাণপুর মৌজার আরএস ১০৩ নম্বর খতিয়ানে ২ একর ১ শতক জমি সমান অংশে রেকর্ডভুক্ত হয়।
এর মধ্যে আরএস ২৮৪ দাগের ৬৬ শতক জমির ১৮ শতক এবং ২৯০ দাগের ১০ শতক জমির ৪ শতকসহ মোট ২২ শতক জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়ভাবে মন্ডল-মাতব্বর ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ মীমাংসা হয়। সেই মীমাংসা অনুযায়ী ২২ শতক জমি দুই পক্ষকে সমানভাবে ১১ শতক করে ভাগ করে দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ছামেদ মন্ডলের ছেলে শাহাজামাল ওই মীমাংসা অমান্য করে পুরো জমি নিজের দাবি করে পুনরায় মেহেরপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি দখল ও সীমানা বেড়া ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চালান।
ভুক্তভোগী রবগুল মন্ডলের ওয়ারিশ রিপন আলী, লালন ও বিপুল জানান, পূর্বের মীমাংসার ভিত্তিতে তারা অন্য দাগে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি আবারও তাদের জমির বেড়া ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের এক ছেলে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ওই সেনা সদস্য সজলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, “এটা আমার জায়গা আমি যেভাবেই হোক তা উদ্ধার করে নেব।” একই সঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্ত শাহাজামালের পরিবারের দাবি, ২২ শতক খাস জমির বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তারা পূর্বের আপোষ মীমাংসাকে অস্বীকার করে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান। ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগও তারা নাকচ করেছেন।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।