Date: May 18, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / জুনের শেষেই বেইজিং সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে...

জুনের শেষেই বেইজিং সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন

May 18, 2026 10:59:55 AM   দেশেরপত্র ডেস্ক
জুনের শেষেই বেইজিং সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–কে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বেইজিং। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে এবং সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং–এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার যে ইঙ্গিত মিলছিল, সম্ভাব্য এই সফর সেটিকেই নতুন মাত্রা দিতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশের একটি জাতীয় দৈনিক জানিয়েছে, সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যদিও সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ হয়নি, তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছানোর দিনই চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই চীন সফরে যাবেন এবং সুবিধাজনক সময়েই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।

এর আগে ৮ মে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে “নতুন উচ্চতায়” নিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বেইজিং।

এদিকে গত ৬ মে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–এর সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই–এর বৈঠকও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীনের বিভিন্ন প্রদেশ সফর করেছে। সেই সফরের পরপরই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফর এবং এখন প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে চীনের বড় ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে আসন্ন সফর বাস্তবায়িত হলে তা শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।