


দেশের আবহাওয়ায় আবারও অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলেছে। দুপুরের মধ্যেই দেশের তিনটি বিভাগের ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে থাকতে পারে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি এমনকি কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সাধারণত এ সংকেত দেওয়া হয় যখন ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং নদীপথে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়।
এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও অনুরূপ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা কৃষি ও জনজীবনে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কোথাও কোথাও আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা গেলেও সার্বিকভাবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই তাপপ্রবাহ কিছু এলাকায় আরও বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ভ্যাপসা গরমও অনুভূত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনশীল অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ঝড়ের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা, নদীপথে যাতায়াতে সতর্ক থাকা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।